পূর্ণ পাঠ · প্রধান ধারাসমূহ
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(ক) “অপরাধ” অর্থ এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ;
(খ) “এসিড” অর্থ গাঢ়, তরল অথবা মিশ্রণসহ যে কোন প্রকার সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, ফসফরিক এসিড,
1
[***] কস্টিক পটাশ, কার্বলিক এসিড, ব্যাটারী ফ্লুইড (এসিড), ক্রোমিক এসিড ও এ্যাকোয়া-রেজিয়া (aqua-regia), এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এসিড জাতীয় (corrosive) অন্যান্য দ্রব্যাদি;
(গ) “এসিড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি” অর্থ এসিড নিক্ষেপের ফলে বা অন্য কোনভাবে এসিড দ্বারা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি;
(ঘ) “চিকিত্সক” অর্থ
Medical and Dental Council Act, 1980
(Act XVI of 1980) এর section 2 এর clause (m) এ সংজ্ঞায়িত registered medical practitioner;
(ঙ) “ডেপুটি কমিশনার” অর্থে ডেপুটি কমিশনারের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(চ) “কাউন্সিল তহবিল” অর্থ ধারা ১০ এর অধীন গঠিত জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল তহবিল;
(ছ) “কাউন্সিল” অর্থ ধারা ৪ এর অধীনে গঠিত জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল;
(জ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(ঝ) “ব্যক্তি” অর্থে কোম্পানী, সমিতি, অংশীদারী কারবার, সংবিধিবদ্ধ বা অন্যবিধ সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ঞ) “লাইসেন্স” অর্থ সরকার কর্তৃক এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স;
(ট) “লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ” অর্থ সরকার এবং ধারা ১৬ এ বর্ণিত কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(ঠ) “স্থান” অর্থ যে কোন বাড়ী-ঘর, স্থাপনা, যানবাহন, স্থিতাবস্থায় বা চলমান যে ভাবেই থাকুক না কেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিমান বন্দর, সামুদ্রিক বন্দর, ডাকঘর এবং বহিরাগমন চেকপোস্টও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে৷
আপাতত বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও তদ্ধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
1
[৪। জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা।(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,
জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল নামের একটি কাউন্সিল থাকিবে।
কো-চেয়ারম্যানও হইবেন;
ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রতিনিধি হিসাবে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী;
বিশিষ্ট সাংবাদিক;
প্রাণ রসায়ন বা ফার্মেসী বিভাগের একজন অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক;
একজন গবেষক বিজ্ঞানী;
ইউনিটের একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক;
দুইজন প্রতিনিধি, যাহার মধ্যে একজন মহিলা হইবেন।
তারিখ হইতে দুই বৎসরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন; তবে শর্ত থাকে যে,
সরকার যে কোন সময় তাঁহার মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে।
হিসাবে কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
করিতে পারিবেন।]
কাউন্সিলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) এসিডের উত্পাদন, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতিমালা এবং আমদানী নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়ন;
(খ) এসিড হইতে সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া এবং এসিডের অপব্যবহার রোধকল্পে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং উহা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
(গ) এসিড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিত্সা, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং উহা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঘ) এসিড অপব্যবহারের কুফল এবং ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রচারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ;
(ঙ) এসিড ব্যবহার ও অপব্যবহার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য যে কোন ধরণের গবেষণা বা জরিপ পরিচালনা;
(চ) এসিড সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সহিত যোগাযোগ স্থাপন এবং এতদ্সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন;
(ছ) শিল্প প্রতিষ্ঠানের উত্পাদন প্রক্রিয়ায় বর্জ্য হিসাবে নির্গত এসিড বা এসিডের মিশ্রণ দ্বারা সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং উহা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং
(জ) উপরি-উক্ত দায়িত্ব পালন ও কর্তব্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্য যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ৷
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন মাসে কাউন্সিলের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
1
[৭। (১) জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিলের জেলা কমিটি নামে প্রতিটিজেলায় একটি করিয়া কমিটি থাকিবে।
(ক) ডেপুটি কমিশনার, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
(খ) পুলিশ সুপার;
(গ) সিভিল সার্জন;
(ঘ) জেলা সদর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র, বা ৰেত্রমত, সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে মেয়র কর্তৃক মনোনীত একজন কাউন্সিলর;
(ঙ) সরকার কর্তৃক মনোনীত উপজেলা পরিষদসমূহের একজন মহিলা ভাইস- চেয়ারম্যান;
(চ) এসিড বিষয়ক স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর/পাবলিক প্রসিকিউটর;
(ছ) জেলা সমাজ সেবক কর্মকর্তা;
(জ) জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা;
(ঝ) পুলিশ সুপার কর্তৃক মনোনীত সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন;
(ঞ) সভানেত্রী, জেলা মহিলা সংস্থা;
(ট) ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক মনোনীত তাতী, জুয়েলারী এবং অন্যান্য এসিড ব্যবহারকারীদের মধ্য হইতে দুইজন প্রতিনিধি;
(ঠ) ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক মনোনীত জেলা প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি হিসাবে একজন বিশিষ্ট সংবাদিক; ৭৫৬৮ বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জুলাই ১৯, ২০১০
(ড) ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক মনোনীত জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রতিনিধি হিসাবে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী;
(ঢ) ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক মনোনীত উক্ত জেলায় কার্যক্রম রহিয়াছে এইরূপ বেসরকারী সংস্থাসমূহের দুইজন প্রতিনিধি, যার মধ্যে একজন অবশ্যই মহিলা হইবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, ডেপুটি কমিশনার যে কোন সময় তাঁহার মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবেন।
জেলা কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) এসিডের উত্পাদন, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা বাস্তবায়ন;
(খ) এসিড হইতে সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া এবং এসিডের অপব্যবহার রোধকল্পে কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং উহা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
(গ) এসিড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিত্সা, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং উহা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঘ) এসিড অপব্যবহারের কুফল এবং ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রচারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ;
(ঙ) এসিড ব্যবহার ও অপব্যবহার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য যে কোন ধরণের গবেষণা বা জরিপ পরিচালনা;
(চ) এসিড সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থার সহিত যোগাযোগ স্থাপন এবং এতদ্সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন;
(ছ) শিল্প প্রতিষ্ঠানের উত্পাদন প্রক্রিয়ায় বর্জ্য হিসাবে নির্গত এসিড বা এসিডের মিশ্রণ দ্বারা সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং উহা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং
(জ) উপরি-উক্ত দায়িত্ব পালন ও কর্তব্য সম্পাদনের জন্য কাউন্সিল কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ৷
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি দুই মাসে জেলা কমিটির কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
(খ) সরকারের অনুমোদনসহ কোন বিদেশী সরকার বা সংস্থা বা কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
(গ) কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
(ঘ) কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; এবং
(ঙ) অন্য কোন উত্স হইতে প্রাপ্ত অর্থ৷
1
[(৪) সরকার তহবিল পরিচালনা করিবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে তহবিল রক্ষণ ও উহার অর্থ ব্যয় করা হইবে।]
1
[সরকার] কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থ, কোন ব্যক্তি বা সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান এবং অন্য কোন উত্স হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে৷
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ডেপুটি কমিশনার বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা যদি জানিতে পারেন যে, কোন ব্যক্তি এসিড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন এবং তাঁহাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরাইয়া আনার জন্য অনতিবিলম্বে তাঁহার চিকিত্সা করা প্রয়োজন, তাহা হইলে ডেপুটি কমিশনার বা উক্ত কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির চিকিত্সা করার জন্য লিখিতভাবে জেলা কমিটির নিকট সুপারিশ করিতে পারিবেন৷
এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন লাইসেন্স পাইবার বা নবায়নের যোগ্য হইবে না, যদি-
(ক) তিনি অত্র আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বত্সর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে, অথবা পঞ্চাশ হাজার টাকার অধিক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং দণ্ডের টাকা আদায় করার পর পাঁচ বত্সরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(খ) তিনি এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্সের কোন শর্তভঙ্গ করেন এবং সেজন্য তাহার উক্ত লাইসেন্স বাতিল হইয়া যায়৷
সরকারের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোন এসিড বিক্রয়ের দোকান বা পরিবহনকৃত কোন যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি, লিখিত আদেশ দ্বারা, অনধিক পনের দিনের জন্য উক্ত দোকান বা যান চলাচল বন্ধ রাখার আদেশ দিতে পারিবেন৷
লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট যদি ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন লাইসেন্সধারী ব্যক্তি কর্তৃক লাইসেন্সের কোন শর্ত যথাযথভাবে পালন করা হইতেছে না বা উহার শর্তাবলী লঙ্ঘন করা হইতেছে, তাহা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ, লিখিত আদেশ দ্বারা, এই আইনের অধীন অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে, লাইসেন্সটি সাময়িকভাবে স্থগিত করিতে পারিবেন৷
লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, এই আইন এবং এই আইনের অধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী সাপেক্ষে-
(ক) কোন এসিড প্রস্তুত বা গুদামজাত করা হইয়াছে বা হইতেছে এই রকম যে-কোন স্থানে যে কোন সময় প্রবেশ করিতে এবং উহা পরিদর্শন করিতে পারিবেন;
(খ) প্রস্তুতকৃত বা সংগৃহীত এসিড বিক্রয়ের জন্য যে দোকানে রাখা হইয়াছে সেই দোকানে দোকান খোলা রাখার সাধারণ সময়ে, প্রবেশ করিতে পারিবেন এবং উহা পরিদর্শন করিতে পারিবেন; এবং
(গ) দফা (ক) ও (খ)- তে উল্লিখিত স্থান বা দোকানে-
(অ) রক্ষিত হিসাব বই, রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করিতে পারিবেন;
(আ) প্রাপ্ত এসিড এবং এসিড জাতীয় দ্রব্যাদি প্রস্তুতের সাজ-সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও উপাদান পরীক্ষা, ওজন ও পরিমাণ নির্ধারণ করিতে পারিবেন; এবং
(ই) প্রাপ্ত বাটখারা, পরিমাপ যন্ত্র বা পরীক্ষা যন্ত্র পরীক্ষান্তে ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলে বা বিবেচিত হইলে উহা আটক করিতে পারিবেন৷
লাইসেন্সধারী প্রত্যেক ব্যক্তি এসিড সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি অর্থাত্ উত্পাদন, আমদানী, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয়, ব্যবহার, ক্রয়, ইত্যাদি ক্ষেত্রমত, যেই ক্ষেত্রে যাহা প্রযোজ্য, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে এবং লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে উহা দেখাইতে বাধ্য থাকিবেন৷
সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ বা তত্কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তাকে এই আইনের অধীন অপরাধ তদন্তের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুরূপ ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে৷
(ক) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ করিয়াছেন;
(খ) এই আইনের অধীন অপরাধ সংক্রান্ত কোন বস্তু বা উহা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কোন দলিল, দস্তাবেজ বা কোন প্রকার জিনিসপত্র কোন স্থানে বা ব্যক্তির নিকট রক্ষিত আছে;
তাহা হইলে, অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, তিনি উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার জন্য বা উক্ত স্থানে দিনে বা রাতে যে কোন সময় তল্লাশীর জন্য পরোয়ানা জারী করিতে পারিবেন৷
(ক) উক্ত স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশী করিতে পারিবেন এবং প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হইলে, বাধা অপসারণের জন্য দরজা-জানালা ভাঙ্গাসহ যে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন;
(খ) উক্ত স্থানে তল্লাশীকালে প্রাপ্ত অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার্য এসিড বা অন্যান্য দ্রব্যাদি, এই আইনের অধীন আটক বা বাজেয়াপ্তযোগ্য বস্তু এবং অপরাধ প্রমাণে সহায়ক কোন দলিল-দস্তাবেজ বা জিনিসপত্র আটক করিতে পারিবেন;
(গ) উক্ত স্থানে উপস্থিত যে কোন ব্যক্তির দেহ তল্লাশী করিতে পারিবেন;
(ঘ) উক্ত স্থানে উপস্থিত কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ করিয়াছেন বা করিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইলে গ্রেফতার করিতে পারিবেন৷
এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হইলে বা কোন বস্তু আটক করা হইলে, গ্রেফতারকারী বা আটককারী কর্মকর্তা তত্সম্পর্কে লিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অবহিত করিবেন এবং প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট এলাকার লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
যদি ধারা ২৪-এ উল্লিখিত কোন কর্মকর্তার এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোন প্রকাশ্য স্থানে বা কোন চলমান যানবাহনে-
(ক) এই আইনের পরিপন্থী কোন এসিড বা বাজেয়াপ্তযোগ্য কোন বস্তু বা এই আইনের অধীন কোন অপরাধ প্রমাণের সহায়ক কোন দলিল- দস্তাবেজ রক্ষিত আছে, তাহা হইলে, তাহার অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, তিনি উক্ত এসিড, বস্তু বা এতদ্সংক্রান্ত দলিল- দস্তাবেজ তল্লাশী করিয়া আটক করিতে পারিবেন;
(খ) এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনকারী বা সংঘটনে উদ্যত কোন ব্যক্তি আছেন, তাহা হইলে তাহার অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, তিনি তাহাকে আটক করিয়া তল্লাশী করিতে পারিবেন এবং তাহার নিকট দফা (ক)-এ উল্লিখিত এসিড বা অনুরূপ বস্তু বা দলিল-দস্তাবেজ পাওয়া গেলে তাহাকে গ্রেফতার করিতে পারিবেন৷
এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, এই আইনের অধীন জারীকৃত সকল পরোয়ানা এবং সকল তল্লাশী, গ্রেফতারী ও আটক এর ব্যাপারে
Code of Criminal Procedure, 1898
(Act V of 1898) এর বিধান অনুসরণ করা হইবে৷
এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ব্যাপারে অনুরূদ্ধ হইলে ধারা ২৪-এ উল্লিখিত কর্মকর্তাগণ পরস্পরকে সর্বপ্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
এই আইনের অধীন কোন অপরাধের তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ, ডেপুটি কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, তত্কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত কোন কর্মকর্তার নিকট তদন্তকার্য হস্তান্তর করিবেন এবং যেই কর্মকর্তার নিকট উক্ত তদন্তকার্য হস্তান্তর করা হইবে, তিনি প্রয়োজনবোধে, শুরু হইতে বা যেই পর্যায়ে হস্তান্তর হইয়াছে সেই পর্যায় হইতে, তদন্ত কার্য পরিচালনা করিতে পারিবেন এবং তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন৷
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ প্রদানের পূর্বে তত্বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নোটিশ জারী করিতে হইবে এবং নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা নোটিশ জারীর তারিখ হইতে অন্যুন পনের দিন হইতে হইবে, আপত্তি উত্থাপনকারীকে শুনানীর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হইবে৷
(ক) আদেশটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত হইলে ডেপুটি কমিশনারের নিকট; এবং
(খ) আদেশটি ডেপুটি কমিশনার বা তত্কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত হইলে সরকারের নিকট-
আপীল করিতে পারিবেন৷
এই আইনের অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য কোন দ্রব্যের বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ প্রদানের সংগে সংগে দ্রব্যটি সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করিতে হইবে এবং তিনি উহা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যবহার, হস্তান্তর বা ধ্বংস করিবার বা অন্য কোন প্রকারে উহার বিলিবন্দেজের ব্যবস্থা করিবেন৷
এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable), অ-আপোষযোগ্য (Non-compoundable) এবং অ-জামিনযোগ্য (Non-bailable) হইবে৷
কোন ব্যক্তি এই আইন এবং এই আইনের অধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী এবং লাইসেন্সের শর্তাদি পালন ব্যতিরেকে কোন এসিড উত্পাদন, আমদানী, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় বা ব্যবহার করিলে কিংবা দখলে রাখিলে উক্ত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন তিন বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং ইহার অতিরিক্ত পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
এই আইনের অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন এইরূপ কোন ব্যক্তির নিকট তাহার দখলে কিংবা তাহার দখলকৃত কোন স্থানে যদি এসিড উত্পাদনে ব্যবহারযোগ্য কোন যন্ত্রপাতি, সাজ-সরঞ্জাম বা উপকরণ পাওয়া যায়, তাহা হইলে তিনি অন্যুন তিন বত্সর এবং অনূর্ধ্ব পনের বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
কোন ব্যক্তি যদি সজ্ঞানে এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য তাহার মালিকানাধীন বা দখলীয় কোন বাড়ী-ঘর, জায়গা-জমি, যানবাহন, যন্ত্রপাতি বা সাজ-সরঞ্জাম ব্যবহার করিতে অনুমতি দেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব পাঁচ বত্সর ও অন্যুন এক বত্সর, সশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোন লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করিলে তিনি অনূর্ধ্ব পাঁচ বত্সর ও অন্যুন এক বত্সর, সশ্রম কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
যদি কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিষয়ে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেন এবং যদি তদন্তক্রমে বা সাক্ষ্য প্রমাণে ইহা প্রমাণিত হয় যে, অভিযোগটি মিথ্যা বা হয়রানীমূলক, তবে, উক্ত অভিযোগকারী এইরূপ মিথ্যা মোকদ্দমা দায়েরের জন্য
1
[অনূর্ধ্ব সাত বৎসর ও অন্যুন দুই বৎসর] সশ্রম কারাদণ্ড এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে কাহাকেও প্ররোচনা দিলে বা সহায়তা করিলে বা কাহারও সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইলে উক্ত ব্যক্তি-
(ক) অপরাধটি সংঘটিত না হইলে, অন্যুন তিন বত্সর এবং অনূর্ধ্ব পনের বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন; এবং
(খ) অপরাধটি সংঘটিত হইলে, মূল অপরাধীর সমপরিমাণ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
এই আইনে উল্লিখিত কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া দণ্ড ভোগ করিবার পর যদি কোন ব্যক্তি পুনরায় একই অপরাধ করেন তিনি উক্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে দণ্ড রহিয়াছে উহার দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
এই আইনের অধীন প্রদত্ত অর্থদণ্ডের অর্থ প্রচলিত আইনের বিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে বা তাহার বিদ্যমান সম্পদ, বা তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর সময় রাখিয়া যাওয়া সম্পদ হইতে আদায় করিয়া অপরাধের দরুন যেই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিয়াছে তাহার উত্তরাধিকারীকে বা ক্ষেত্রমত, যে ব্যক্তি শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন সেই ব্যক্তিকে বা সেই ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাহার উত্তরাধিকারীকে প্রদান করা হইবে৷
এই আইনের অধীন কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানী হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানীর মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা এজেন্ট বিধানটি লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত লঙ্ঘন তাঁহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত লঙ্ঘন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷
ব্যাখ্যা৷- এই ধারায়-
(ক) “কোম্পানী” বলিতে কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সমিতি বা সংগঠনকে বুঝাইবে, দোকানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(খ) বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে “পরিচালক” বলিতে উহার কোন অংশীদারী বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যকেও বুঝাইবে৷
যদি কোন ব্যক্তির নিকট বা তাহার দখলকৃত বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোন স্থানে কোন এসিড প্রস্তুতে ব্যবহারযোগ্য সাজ-সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি বা এসিড প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় কোন বস্তু বা উপাদান পাওয়া যায় তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া আদালত অনুমান করিতে পারিবে, এবং উক্ত ব্যক্তি উহা করেন নাই এইরূপ দাবী করা হইলে তাহা প্রমাণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর বর্তাইবে৷
এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, কাউন্সিল, জেলা কমিটি বা কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
এই আইনের অধীন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কিংবা অন্য কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশের ফলে কোন লাইসেন্সধারী ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি তজ্জন্য, অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ক্ষতিপূরণ দাবী করিতে পারিবেন না বা তত্কর্তৃক প্রদত্ত কোন ফিস ফেরত্ চাহিতে পারিবেন না৷