পূর্ণ পাঠ · প্রধান ধারাসমূহ
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
Penal Code, 1860
(Act XLV of 1860);
Code of Civil Procedure, 1908
(Act V of 1908);
Code of Criminal Procedure, 1898
(Act V of 1898);
আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩
(১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর ধারা ২(ঞ) তে সংজ্ঞায়িত কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ বা আর্থিক সুবিধা, যাহা দাবী হিসাবে গণ্য হইতে পারে;
এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, ইহার বিধানাবলী আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনের ক্ষুণ্নকারী হইবে না, বরং অতিরিক্ত হইবে৷
আদালত উহার আদি দেওয়ানী এখ্তিয়ার প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারে, সেই একইরূপ ক্ষমতা এই আইনের অধীন যেকোন কার্যধারার ক্ষেত্রে, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রয়োগ করিতে পারিবে৷
(ক) যদি তিনি বাংলাদেশ বা অন্যত্র তাহার এবং তাহার স্ত্রী, পুত্র, কন্যার নামে বেনামীতে রক্ষিত সকল বা প্রায় সকল সম্পত্তি সাধারণভাবে তাহার পাওনাদারগণের সুবিধার্থে কোন তৃতীয় ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করেন৷
(খ) যদি তিনি তাহার পাওনাদারগণের দাবী ব্যর্থ বা বিলম্বিত করিবার উদ্দেশ্যে তাহার এবং তাহার স্ত্রী, পুত্র, কন্যার নামে বেনামীতে রক্ষিত সম্পত্তি বা উহার কোন অংশ বাংলাদেশে বা অন্যত্র হস্তান্তর করেন;
ব্যাখ্যা৷- যদি কোন ব্যক্তি তাহার দেনা পরিশোধে অক্ষম থাকা অবস্থায় যুক্তিসংগত মূল্য ব্যতিরেকে তাহার সম্পত্তি বা উহার কোন অংশ হস্তান্তর করেন, তাহা হইলে তিনি তাহার পাওনাদারগণের দাবী ব্যর্থ বা বিলম্বিত করিবার উদ্দেশ্যে উক্ত হস্তান্তর করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন;
(গ) যদি তিনি তাহার সম্পত্তি বা উহার কোন অংশ বাংলাদেশে বা অন্যত্র এইরূপে হস্তান্তর করেন বা বন্ধক দেন বা দায়বদ্ধ বা চার্জযুক্ত করেন যে, তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার ক্ষেত্রে উক্তরূপ হস্তান্তর, বন্ধকীকরণ, দায়বদ্ধকরণ বা চার্জযুক্তকরণ এই আইন বা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনের প্রতারণামূলক অগ্রাধিকার (fraudulent preference) হিসাবে ফলবিহীন পরিগণিত হয়;
(ঘ) তাহার পাওনাদারগণের দাবী ব্যর্থ বা বিলম্বিত করিবার উদ্দেশ্যে, যদি তিনি-
(অ) বাংলাদেশ ত্যাগ করেন বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করেন;
(আ) তাহার আবাসস্থল বা তাহার স্বাভাবিক কর্মস্থল ত্যাগ করেন;
(ই) এইরূপে আত্মগোপন করেন যে, তাহার পাওনাদারগণ তাহার সহিত যোগাযোগের সুযোগ হইতে বঞ্চিত হন; অথবা
(ঈ) ষড়যন্ত্র বা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করিয়া কোন আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত তাহার স্বার্থ বিরোধী ডিক্রী, রায় বা আদেশ মানিয়া লন;
(ঙ) যদি কোন অর্থ পরিশোধের উদ্দেশ্যে কোন আদালতের ডিক্রী বাস্তবায়ন (execution) প্রক্রিয়ায় তাহার কোন সম্পত্তি বিক্রি হইয়া থাকে;
(চ) দেউলিয়া ঘোষিত হইবার জন্য যদি তিনি স্বয়ং এই আইনের অধীনে আদালতে আর্জি পেশ করেন;
(ছ) যদি তিনি তাহার কোন পাওনাদারকে এই মর্মে লিখিত নোটিশ প্রদান করেন যে, তিনি তাহার দেনা পরিশোধ স্থগিত রাখিয়াছেন বা রাখিতে যাইতেছেন;
(জ) যদি কোন পাওনা পরিশোধে অক্ষমতাহেতু কোন আদালতের ডিক্রী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তাহাকে কারাগারে আটক রাখা হয়;
(ঝ) যদি অন্যুন ৫,০০,০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা বৈধ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ দেনার বিপরীতে এক বা একাধিক পাওনাদার উক্ত পাওনা পরিশোধ করিতে বা উহার বাবদ পাওনাদারের সন্তোষ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জামানত প্রদান করিতে অনুরোধ জানাইয়া এই আইনের অধীন একটি আনুষ্ঠানিক দাবীনামা (formal demand) প্রেরণ করিয়া থাকেন এবং উক্ত দাবীনামা জারীর পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে দেনাদার দাবী পূরণ না করেন৷
দেনাদার কোন দেউলিয়া কর্ম করিলে, এক বা একাধিক যথাযোগ্য (eligible) পাওনদার বা উক্ত দেনাদার, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, আর্জি পেশ করিতে পারিবেন, এবং আদালত উক্ত আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত দেনাদারকে দেউলিয়া ঘোষণা করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিতে পারিবে; এই আইনে এইরূপ আদেশ দেউলিয়া ঘোষণাদেশ বলিয়া অভিহিত৷
(ক) বাংলাদেশের বাসিন্দা হন অথবা তাহার পরিচালিত কাজকর্মের (business) প্রধান দপ্তর বাংলাদেশে রাখেন;
(খ) আর্জি পেশ করার অব্যবহিত পূর্ববর্তী এক বত্সরের মধ্যে যেকোন সময় বাংলাদেশে সাধারণভাবে বসবাস করিতেন অথবা উক্ত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে তাহার একটি আবাসস্থল বা কর্মস্থল ছিল;
(গ) সাধারণতঃ প্রতিনিধির মাধ্যমে বাংলাদেশে তাহার কাজকর্ম চালাইয়া থাকেন৷
(ক) জাতীয় সংসদ এবং বিচার বিভাগীয় সংস্থাসহ কোন সরকারী সংস্থা;
(খ) কোন দাতব্য বা ধর্মীয় সংস্থা;
(গ) মূখ্য উদ্দেশ্যে আর্থিক লাভ নয় এমন সংবিধিবদ্ধ (statutory) সংস্থা;
(ঘ) সরকার কর্তৃক বা সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত কোন স্বশাসিত (autonomous) প্রতিষ্ঠান৷
(ক) দেনাদারের নিকট উক্ত পাওনাদারের পাওনার পরিমাণ, অথবা দুই বা ততোধিক পাওনাদার যৌথভাবে আর্জি পেশ করিলে তাহাদের সাকুল্য পাওনার পরিমাণ ৫,০০,০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা না হয়;
(খ) দেনাদার কর্তৃক কোন দেউলিয়া কর্ম সংগঠনের প্রাথমিক প্রমাণ উক্ত পাওনাদার উপস্থাপন না করেন; এবং
(গ) উক্ত দেউলিয়া কর্মটি আর্জি পেশ করার তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী এক বত্সরের মধ্যে সংগঠিত না হইয়া থাকে৷
(ক) তিনি উক্ত আর্জিতে আরও উল্লেখ করেন যে, তাহার দেনার পরিমাণ অন্তত ২০,০০০.০০ (বিশ হাজার) টাকা; অথবা
(খ) তাহার কোন দেনা পরিশোধে অক্ষমতার কারণে তাহার বিরুদ্ধে কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তিনি গ্রেফতার বা কারাগারে আটক; অথবা
(গ) উক্তরূপ ডিক্রী বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় তাহার সম্পত্তি ক্রোকের (attachment) জন্য একটি আদেশ প্রদত্ত হইয়া থাকে এবং উক্ত আদেশ আর্জি পেশ করার সময় বলবত্ থাকে৷
(ক) দেনাদার তাহার দায়মুক্তির আবেদন করা বা উক্ত আবেদন পেশ করিবার পর তদবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত কারণে বাধাগ্রস্ত ছিলেন; অথবা
(খ) যে সকল ঘটনার ভিত্তিতে দেউলিয়া ঘোষিত হইবার জন্য তিনি আর্জি পেশ করিয়াছেন, সেই সকল ঘটনা ইতিপূর্বে প্রদত্ত ঘোষণাদেশের আর্জিতে উল্লিখিত ঘটনা হইতে ভিন্নতর৷
ধারা ৪ এর বিধান সাপেক্ষে প্রতিটি আর্জি সেই আদালতে পেশ করিতে হইবে, যে আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্র (local limits)-
(ক) দেনাদার সাধারণতঃ বসবাস করেন বা তাহার কাজকর্ম পরিচালনা করেন বা ব্যক্তিগতভাবে কোন লাভজনক কাজ করিয়া থাকেন, অথবা তিনি গ্রেফতারকৃত বা কারাগারে আটককৃত থাকেন, অথবা
(খ) দেনাদার একক ব্যক্তি (individual) না হওয়ার ক্ষেত্রে, উহার প্রধান বা নিবন্ধিকৃত কার্যালয় অবস্থিত৷
এই আইনের অধীন প্রতিটি আর্জি লিখিত হইবে এবং উহা দেওয়ানী কার্যবিধিতে আর্জি (plaint) স্বাক্ষরকরণ এবং সত্যাখ্যান (verification) এর যে পদ্ধতি নির্ধারিত আছে সেই পদ্ধতিতে স্বাক্ষর ও সত্যাখ্যান করিতে হইবে৷
(ক) দেনাদার যে তাহার দেনা পরিশোধে অক্ষম, সেইমর্মে একটি সুনির্দিষ্ট বিবৃতি;
(খ) সাধারণতঃ যেই স্থানে তিনি বসবাস করেন বা তাহার কাজকর্ম পরিচালনা করেন বা ব্যক্তিগতভাবে কোন লাভজনক কর্মে লিপ্ত থাকেন সেই স্থান অথবা তিনি গ্রেফতারকৃত বা কারারুদ্ধ থাকিলে যেই স্থানে তিনি কাহারও হেফাজতে আছেন সেই স্থান, অথবা দেনাদার একক ব্যক্তি না হইলে, উহার প্রধান বা নিবন্ধিকৃত কার্যালয় যেখানে অবস্থিত সেই স্থানের পূর্ণ বিবরণ;
(গ) যে আদালত তাহাকে গ্রেফতার বা কারারুদ্ধ করার বা তাহার সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ প্রদান করিয়াছে সেই আদালত, এবং যেই ডিক্রী বা রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদত্ত হইয়াছে সেই ডিক্রী বা রায়, এর বিবরণ;
(ঘ) তাহার বিরুদ্ধে উত্থাপিত যাবতীয় আর্থিক দাবীর পরিমাণ, বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট পাওনাদারগণের নাম ও ঠিকানা, যতদূর তাহার জানা আছে বা যুক্তিসংগত সতর্কতা বা প্রচেষ্টা সহকারে জানা সম্ভব হয়;
(ঙ) তাহার যাবতীয় সম্পত্তির পরিমাণ এবং বিবরণসহ নিম্্নবর্ণিত তথ্যাদি:-
(অ) অর্থ ব্যতীত উক্তরূপ সকল সম্পত্তির মূল্যমান;
(আ) এইরূপ সম্পত্তি যেই স্থান বা স্থানসমূহে পাওয়া যাইবে উহার বিবরণ;
(ই) তাহার হিসাব বহিসহ সকল সম্পত্তি আদালতের নিকট অর্পণ করিতে তিনি ইচ্ছুক মর্মে একটি ঘোষণা:
তবে শর্ত থাকে যে, দেনাদারের ক্ষেত্রে তাহার অব্যাহতিপ্রাপ্ত (exempted) সম্পত্তি, যদি থাকে, এইরূপ অর্পণের আওতাভুক্ত হইবে না;
(চ) ইতিপূর্বে দেনাদার কোন সময়ে বাংলাদেশে বা অন্যত্র দেউলিয়া ঘোষিত হইবার উদ্দেশ্যে কোন আর্জি বা আবেদন পেশ করিয়াছেন কি না তদসম্পর্কে একটি বিবৃতি এবং এইরূপ কোন আবেদন বা আর্জি পেশ করিয়া থাকিলে-
(অ) উক্ত আবেদন বা আর্জি খারিজ হইয়াছে কি না এবং হইয়া থাকিলে উহার কারণ; অথবা
(আ) যদি তিনি তদপ্রেক্ষিতে দেউলিয়া ঘোষিত হইয়া থাকেন, তবে তাহার উক্ত দেউলিয়াত্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং তদসহ এই মর্মে একটি বিবৃতি যে, ইতিপূর্বে তাহার সম্পর্কে প্রদত্ত কোন দেউলিয়া ঘোষণাদেশ রদ হইয়াছে কি না, ও রদ হইয়া থাকিলে, উহার কারণ৷
(ক) দেনাদার কর্তৃক সংগঠিত দেউলিয়া কর্ম, এবং উহা সংগঠনের তারিখ; এবং
(খ) দেনাদারের বিরুদ্ধে পাওনাদারের দাবীর পরিমাণ ও বিবরণ৷
দেনাদার বা পাওনাদার যিনিই দাখিল করিয়া থাকেন, আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন আর্জি প্রত্যাহার করা যাইবে না৷
যে ক্ষেত্রে একই দেনাদারের বিরুদ্ধে দুই বা ততোধিক আর্জি পেশ করা হয়, অথবা যৌথ দেনাদারের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক আর্জি পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আদালত যথাযথ মনে করিলে উহার বিবেচনায় উপযুক্ত শর্তসাপেক্ষে উক্তরূপ আর্জি-ভিত্তিক সকল কার্যধারা বা উহাদের মধ্যে যে কোন সংখ্যক কার্যধারাকে একীভূত করিতে পারিবে৷
কোন পাওনাদার যথাযথ যত্ন সহকারে তাহার পেশকৃত আর্জি সম্পর্কে পদক্ষেপ গ্রহণ না করিলে, আদালত তদস্থলে অন্য যে কোন যথাযোগ্য পাওনাদারকে প্রতিস্থাপন করিতে পারিবে৷
যে দেনাদারের পক্ষে বা বিপক্ষে আর্জি পেশ করা হইয়াছে তাহার মৃত্যু হইলে উক্ত আর্জি-ভিত্তিক কার্যধারা ততদিন অব্যাহত থাকিবে যতদিন উক্ত দেনাদারের সম্পত্তি উদ্ধার ও বণ্টনের উদ্দেশ্যে উহা উক্তরূপে অব্যাহত রাখা প্রয়োজন হয়, যদি না আদালত লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক ভিন্নরূপ আদেশ না দেয়৷
আর্জি গ্রহণের (admission) সম্পর্কে দেওয়ানী কার্যবিধিতে বর্ণিত পদ্ধতি যতদূর প্রযোজ্য হয় তাহা এই আইনের অধীন পেশকৃত আর্জির ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন এবং বিধিতে এতদসম্পর্কে কোন ভিন্নতর পদ্ধতি বর্ণিত থাকিলে তাহাই অনুসরণ করিতে হইবে৷
(ক) আদালত যেরূপ উপযুক্ত এবং বাস্তবসম্মত বলিয়া মনে করে সেইরূপ পন্থায় আর্জিকারী অথবা তাহার আইনজীবি বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির নিকট উক্ত নোটিশ প্রদান করিয়া;
(খ) আর্জিকারী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, আদালত যেরূপ উপযুক্ত এবং বাস্তবসম্মত মনে করে সেইরূপ পন্থায় এবং তদসহ বহুল প্রচারিত ও দেশের রাজধানী হইতে প্রকাশিত অন্ততঃ দুইটি বাংলা দৈনিকের পর পর দুইটি সংখ্যায় উক্ত দরখাস্ত ও আদেশটির সারমর্ম প্রকাশ করিয়া৷
(ক) একক দেনাদার ব্যতীত অন্য যেকোন দেনাদারকে এই মর্মে একটি আদেশ প্রদান করা যাইবে যে, উক্ত দেনাদার তাহার প্রতিনিধি হিসাবে, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে, একজন একক ব্যক্তিকে মনোনীত করিবে এবং এইরূপ মনোনীত ব্যক্তি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলিয়া অভিহিত হইবেন, এবং উক্ত দেনাদার এইরূপ মনোনয়নদানে ব্যর্থ হইলে, আদালত এমন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোনীত করিবে যিনি বা যাহারা উক্ত দেনাদারের কার্যকলাপ বা ব্যবসার অংশীদার বা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী, যে নামে অভিহিত হউন না কেন;
(খ) আদালত যেরূপ যথাযথ মনে করে সেইরূপ কোন সম্পত্তি সংগ্রহ করা প্রয়োজনীয় লেনদেন করা বা উহা করা হইতে বিরত থাকা, সংশ্লিষ্ট সভা বা শুনানীতে হাজির থাকা বা অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা বা এইসবের যে কোনটি সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করিবার জন্য দেনাদার বা, ক্ষেত্রমত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদেশ দান;
(গ) আর্জি খারিজ না হওয়া পর্যন্ত বা দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত না হওয়া পর্যন্ত দেনাদার বা, ক্ষেত্রমত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হাজিরা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তিসংগত জামানত প্রদান করিবার জন্য তাহাকে আদেশ প্রদান এবং উক্ত জামানত প্রদানে ব্যর্থ হইলে তাহাকে দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা হইবে মর্মে নির্দেশ প্রদান;
(ঘ) দেনাদারের দখলভুক্ত বা নিয়ন্ত্রণাধীন হিসাব বহিসহ সকল সম্পত্তি বা উহার অংশবিশেষ, অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পত্তি থাকিলে উহা ব্যতীত, ক্রোক আদেশের মাধ্যমে বাস্তবে আটক করার জন্য আদেশ প্রদান;
(ঙ) দেনাদার বা, ক্ষেত্রমত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দফা (খ) বা (গ) এর অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ পালনে ব্যর্থ হইলে তাহাকে, জামিনসহ বা জামিন ব্যতিরেকে, গ্রেফতার করার জন্য আদেশ প্রদান, এবং আর্জি খারিজ না হওয়া পর্যন্ত বা দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত না হওয়া পর্যন্ত তাহাকে দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা বা জামানত সংক্রান্ত যুক্তিসংগত ও প্রয়োজনীয় শর্তাধীনে তাহাকে মুক্তিদানের নির্দেশ প্রদান:
তবে শর্ত থাকে যে, দফা (ঘ) বা (ঙ) এর অধীনে কোন আদেশ প্রদান করা হইবে না, যদি আদালত সন্তুষ্ট না হয় যে, দেনাদার বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহার কোন পাওনাদারের দাবী ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা বা আদালতের পরোয়ানা বা নোটিশ এড়ানোর জন্য-
(অ) পলাতক রহিয়াছেন বা আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাহিরে চলিয়া গিয়াছেন, অথবা পালাইয়া যাওয়া বা উক্ত সীমার বাহিরে চলিয়া যাওয়ার উপক্রম করিয়াছেন বা উক্ত সীমার বাহিরে অবস্থান করিতেছেন, অথবা
(আ) দরখাস্ত শুনানীকালে বা দেনাদারের দেউলিয়াত্বকালে পাওনাদারগণ বা আদালতের কাজে লাগিতে পারে এইরূপ কোন সম্পত্তি, অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পত্তি ব্যতীত, বা তদ্সম্পর্কিত কোন দলিলপত্র-এর অস্তিত্ব প্রকাশ করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন বা উহা লুকাইয়াছেন বা বিনষ্ট বা হস্তান্তর করিয়াছেন বা আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্রে হইতে সরাইয়া ফেলিয়াছেন বা এইরূপ যেকোন কাজ করিবার ব্যবস্থা করিতেছেন৷
(ক) তাহার সকল হিসাব বহি পেশ করা;
(খ) তাহার সম্পত্তির তালিকা, তাহার পাওনাদার ও তাহাদের পাওনার তালিকা এবং তাহার দেনাদার ও তাহাদের দেনার তালিকা উপস্থাপন করা;
(গ) আদালত বা রিসিভারের জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর প্রদানের জন্য হাজির হওয়া;
(ঘ) তাহার সম্পত্তির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দলিল সম্পাদন করা;
(ঙ) সাধারণভাবে প্রয়োজনীয় অন্য সকল কার্য সম্পাদন করা৷
(ক) আর্জি দাখিলের ব্যাপারে পাওনাদার বা, ক্ষেত্রমত, দেনাদারের অধিকার:
তবে শর্ত থাকে যে, দেনাদার আর্জি দাখিল করিয়া থাকিলে, দেনা পরিশোধের দায় প্রমাণের উদ্দ্যেশ্যে, এতটুকু প্রমাণ উপস্থাপনে নির্দেশ প্রদান করিলেই চলিবে, যাহা হইতে উক্ত দায় আদালতের নিকট প্রাথমিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য বলিয়া প্রতিপন্ন হয়: এবং আদালত তন্মর্মে সন্তুষ্ট হইলে বিষয়টি সম্পর্কে অতিরিক্ত শুনানী করার ক্ষেত্রে কোন বাধ্য-বাধকতা থাকিবেনা;
(খ) আর্জি কোন পাওনাদার পেশ করিয়া থাকিলে এবং তত্প্রেক্ষিতে দেনাদার ইতিমধ্যে হাজির না হইয়া থাকিলে, দেনাদারকে ২২(২) ধারার অধীন নোটিশ প্রদান; এবং
(গ) দেনাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগকৃত দেউলিয়া কর্ম৷
তবে শর্ত থাকে যে, যে মেয়াদ বা মেয়াদসমূহব্যাপী শুনানী মুলতবী থাকে উহার সাকুল্য পরিমাণ ৯০ (নব্বই) দিনের বেশী হওয়া চলিবে না৷
(ক) নিম্্নবর্ণিত বিষয়াদির প্রমাণ সম্পর্কে আদালত সন্তুষ্ট না হয়, যথা-
(অ) দরখাস্ত দাখিল করার জন্য উক্ত পাওনাদারের অধিকার;
(আ) দরখাস্ত শুনানীর তারিখ-নির্ধারণী আদেশের নোটিশ দেনাদারের উপর ২২(২) ধারা অনুসারে জারীকরণ; এবং
(ই) অভিযোগকৃত দেউলিয়া কর্ম; অথবা
(খ) দেনাদার আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে,-
(অ) তিনি তাহার দেনা পরিশোধ করিতে সক্ষম;
(আ) তিনি কোন স্বেচ্ছাকৃত খেলাপী (wilfull defaulter) নহেন; অথবা
(গ) অন্য কোন কারণে দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদান করা সমীচীন নহে মর্মে আদালত সন্তুষ্ট হয়৷
ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারায় “স্বেচ্ছাকৃত খেলাপী” অর্থ এমন একজন দেনাদার যিনি, আনুষ্ঠানিক দাবীনামা জারির পর, এক বত্সর সময়ব্যাপী অন্ততঃ ৫,০০,০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকার অধিক ব্যাংক-ঋণ অপরিশোধিত রাখিয়াছেন৷
(ক) একটি দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদান করিবে; এবং
(খ) একক দেনাদারের ক্ষেত্রে, উক্ত আদেশে-
(অ) দেনাদারকে দায়মুক্তিকরণের বিষয়টি প্রথম যে তারিখে ৪৭(৩) ধারা অনুসারে বিবেচনা করা হইবে সেই তারিখটি নির্ধারণ করিবে, এবং উল্লেখ করিবে যে, উক্ত তারিখের মধ্যে দেনাদার তাহার দায়মুক্তির জন্য আবেদন করিতে পারেন, যদি দেনাদার স্বয়ং আর্জি দাখিল না করিয়া থাকেন;
(আ) আরও উল্লেখ করিবে যে, দেনাদার আদালত কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ, যাহা যথাযোগ্য পাওনাদারগণের দাবীকৃত অর্থের শতকরা দশ ভাগের কম হইবে না, আদালতে জমা দেওয়ার পর উক্ত ঘোষণাদেশের বিরুদ্ধে ৯৬ ধারার অধীনে আপীল করিতে পারিবে৷
এই আইনের অন্য কোন বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, একক দেনাদারের নিম্্নবর্ণিত সম্পত্তির দখল ২৩ ধারার অধীনে গ্রহণ করা যাইবে না বা উহা ৩১ ধারার অধীনে আদালতে বা রিসিভারে ন্যস্ত হইবে না এবং এইরূপ সম্পত্তি অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পত্তি নামে অভিহিত হইবে, যথা:-
(ক) যন্ত্রপাতি, যাহা দেনাদার স্বয়ং ব্যবহার করেন;
(খ) পরিধেয় বস্ত্রাদি, গৃহস্থালির সরঞ্জামাদি এবং দেনাদার, তাহার স্ত্রী বা, ক্ষেত্রমত, স্বামী এবং সন্তানাদির ব্যবহার্য অনুরূপ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী;
(গ) দেনাদারের (অবন্ধককৃত) বসবাসস্থান বা বাসগৃহ, যাহার ভিত্তিভূমি বা মেঝের আয়তন, শহর এলাকায় এক বা একাধিক তলায় মোট অনধিক ২৫০০ বর্গফুট, এবং অন্যান্য এলাকায় এক বা একাধিক তলায় মোট ৫,০০০ বর্গফুট-এর অধিক নয়:
তবে শর্ত থাকে যে, (ক) ও (খ) দফায় উল্লিখিত সামগ্রীর মোট মূল্য ৩,০০,০০০.০০ (তিন লক্ষ) টাকার অধিক হওয়া চলিবে না৷
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ মামলা বা অন্যবিধ কার্যধারা হইতে উদ্ভূত কোন আপীল বা রিভিশন যদি কোন উচ্চতর আদালতে নিষ্পন্নাধীন থাকে, তাহা হইলে উক্ত উচ্চতর আদালত আপীল বা রিভিশনটি ধারা ৯৬ তে উল্লিখিত আপীল আদালতে বদলী করিবে৷
তবে শর্ত থাকে যে, যদি উক্ত নিরাপত্তামূলক আদেশ প্রত্যাহার করা হয় বা সংশ্লিষ্ট ঘোষণাদেশ রদ করা হয়, তাহা হইলে উক্ত নিরাপত্তামূলক আদেশ কোন পাওনাদারের অধিকার ক্ষুণ্ন করিবে না৷
দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের পর পাওনাদার কমিটি বা রিসিভার বা কোন পাওনাদারের আবেদনক্রমে, আদালতের যদি এইরূপ বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, দেনাদার বা, ক্ষেত্রমত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই আইনের অধীন তাহার উপর আরোপিত বা আরোপণীয় কোন দায়িত্ব (obligation) এড়ানোর উদ্দেশ্যে পলাতক রহিয়াছেন অথবা আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাহিরে চলিয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে তাহাকে গ্রেফতারের জন্য আদালত পরোয়ানা জারি করিতে পারিবে, এবং তিনি আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে আনীত হইলে, যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, তিনি উক্ত উদ্দেশ্যে পলাতক ছিলেন বা চলিয়া গিয়াছিলেন, তাহা হইলে জামানতের ব্যাপারে যুক্তিসংগত প্রয়োজনীয় শর্তে তাহাকে মুক্তিদানের জন্য আদালত আদেশ দিতে অথবা এইরূপ জামানত প্রদত্ত না হইলে তাহাকে অনধিক তিন মাসের জন্য দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৩৯(১) এর বিধান সাপেক্ষে, যদি আদালতের মতে কোন দেনার পরিমাণ মোটামুটি সঠিকভাবে (fairly) নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে আদালত সেই মর্মে একটি আদেশ প্রদান করিবে এবং তত্প্রেক্ষিতে উক্ত দেনা উক্ত তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হইবে না৷
যে ক্ষেত্রে আদালতের মতে কোন দেনাদারকে দেউলিয়া ঘোষণা করা যথাযথ হয় নাই, অথবা যে ক্ষেত্রে আদালতের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রমাণিত হয় যে, উক্ত দেনাদারের দেনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে আদালত, দেনাদার বা অন্য কোন স্বার্থবান ব্যক্তির আবেদনক্রমে, উক্ত ঘোষণাদেশ লিখিত আদেশ দ্বারা রদ করিবে; এবং আদালত নিজ উদ্যোগে অথবা রিসিভার বা কোন পাওনাদারের আবেদনক্রমে, এইরূপ যেকোন দেউলিয়া ঘোষণাদেশও রদ করিতে পারিবে, যাহা ধারা ১৩(২) এর বিধান অনুসারে আর্জি দাখিলের অধিকারী নহেন এইরূপ কোন দেনাদারের দরখাস্তের ভিত্তিতে প্রদত্ত হইয়াছে৷
কোন ক্ষেত্রে দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের পর উক্ত আদেশ প্রদানকারী আদালতে যদি প্রমাণিত হয় যে, একই দেনাদারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অন্য কোন আদালতে দেউলিয়া বিষয়ক বা সমফলপ্রদ অন্য কোন কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন আছে এবং উক্ত কার্যধারায় দেনাদারের সম্পত্তি উক্ত অন্য আদালতের মাধ্যমে অধিকতর সুবিধাজনকভাবে বণ্টন করা যাইবে তাহা হইলে আদালত উক্ত ঘোষণাদেশ রদ কিংবা তত্সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যধারা স্থগিত করিতে পারিবে৷
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জামানতবিহীন পাওনাদারগণের প্রাপ্য সকল পাওনার ১৫% হইতে ৬৫% এবং ব্যাংক ঋণের পাওনাদারগণের প্রাপ্য সকল পাওনার ২৫% হইতে ৭৫%, যাহা আদালত নির্ধারণ করে, এর সমপরিমাণ অর্থের জামানত প্রদান করা হইলে, যুক্তিসংগত জামানত প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, উক্ত যুক্তিসংগত জামানত নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত দেনাদারের দেনার সম্পর্কে নিম্্নবর্ণিত পরিস্থিতিগুলি বিবেচনা করিবে, যথা:-
(ক) দেনাদার সম্পূর্ণভাবে তাহার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণের শিকার হইয়া থাকিলে, উক্ত কারণের মাত্রা;
(খ) কোন উদ্যোগে (enterprise) অর্থায়নের জন্য দেনাদার অর্থ গ্রহণ করিয়া থাকিলে, উক্ত উদ্যোগের সহিত সম্পৃক্ত ঝুঁকির মাত্রা;
(গ) দেনাদারের কার্যকলাপ, সত্বুদ্ধি-বিরোধী বা নৈতিকতা-বিরোধী কিনা৷
ধারা ৪৩ এর অধীন কোন প্রস্তাব অনুমোদন করা হইলে-
(ক) আদালত একটি আদেশের মাধ্যমে অনুমোদনের শর্তাবলী নির্ধারণ করিয়া দিবে;
(খ) আদালত উক্ত আদেশে দেউলিয়া ঘোষণাদেশ রদ করিবার বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করিবে এবং তদ্প্রেক্ষিতে উক্ত রদকরণের ক্ষেত্রে ৪২ ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে; এবং
(গ) অনুমোদিত আপোষ-মিমাংসা বা পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা দেনাদারের নিকট প্রাপ্য এবং এই আইনের অধীনে প্রমাণযোগ্য সকল দেনার ব্যাপারে সকল পাওনাদারের উপর বাধ্যকর হইবে৷
(ক) ধারা ২৪(১) এর (ক) এবং (খ) দফায় বর্ণিত যেকোন ক্ষমতা প্রয়োগ এবং তদনুসারে যেকোন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে; এবং
(খ) উহার নথিতে প্রাপ্ত তথ্যাদির নিরীখে পুনর্গঠন পরিকল্পনা পরীক্ষা করিতে এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, যাহা উপ-ধারা (২) এর অধীনে নির্ধারিত শুনানীর তারিখের পর হইবে না, এর মধ্যে উক্ত পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রণয়নের জন্য রিসিভারকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে; এবং এইরূপ নির্দেশ অনুসারে রিসিভার, প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বাস্তবায়নযোগ্যতা সম্পর্কে তাহার মতামতসহ, উক্ত পরিকল্পনার উপর একটি প্রতিবেদন দাখিল করিবেন৷
(ক) জাতীয় স্বার্থ;
(খ) পাওনাদারগণের স্বার্থ;
(গ) দেনাদারের স্বার্থ:
তবে শর্ত থাকে যে, আদালতে প্রমাণিত সকল দেনার মূল্যমানের ভিত্তিতে যদি দুই-তৃতীয়াংশ পাওনাদার, ব্যক্তিগতভাবে বা তাহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে, উক্ত পুনর্গঠন পরিকল্পনা সম্পর্কে লিখিত সম্মতি জ্ঞাপন না করেন, তাহা হইলে কোন পুনর্গঠন আদেশ প্রদান করা হইবে না;
আরও শর্ত থাকে যে, আদালত, পুনর্গঠন আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে, উক্ত পরিকল্পনায় সম্মতি প্রদান করে নাই এইরূপ পাওনাদার বা বিভিন্ন শ্রেণীর পাওনাদারগণ বা সাধারণভাবে সকল পাওনাদারগণের স্বার্থ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে, বিধির বিধান সাপেক্ষে, উক্ত পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় রদবদলসহ উহার বিবেচনামত প্রয়োজনীয় শর্ত আরোপ করিতে পারিবে, এবং এইরূপ রদবদল ও শর্ত পরিকল্পনার অংশ হইবে৷
(ক) স্বীয় উদ্যোগে অথবা রিসিভার বা কোন যথাযোগ্য পাওনাদারের আবেদনক্রমে, এবং
(খ) যাহার বিরুদ্ধে আবেদন করা হইয়াছে তাহাকে অথবা, ক্ষেত্রমত, যথাযোগ্য পাওনাদার বা রিসিভারকে বা দেনাদারকে নোটিশ প্রদান করিয়া এবং বিষয়টি সম্পর্কে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদানের পর,
রিসিভার বা তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে দেনাদারের স্থলে বিশেষ ব্যবস্থাপক, অতঃপর বিকল্প ব্যবস্থাপক বলিয়া অভিহিত, নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(ক) আর্জি দাখিলের তারিখের পর এবং পুনর্গঠন আদেশের তারিখের পূর্বে যে কোন সময়, দেনাদার কর্তৃক অর্জিত কিংবা তাহার উপর ন্যস্ত সকল সম্পদ বণ্টনযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(খ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা এইরূপ বিধান না থাকিলে আদালত কর্তৃক ধার্যকৃত তারিখের পূর্বে যেকোন সময় যেকোন পাওনাদার তাহার দাবী প্রমাণ করিতে পারিবেন;
(গ) আর্জি দাখিলের পর দেনাদার যদি কোন দেনা করেন, তবে তাহা প্রশাসনিক (administrative) দাবী বলিয়া গণ্য হইবে;
(ঘ) অনুমোদিত পুনর্গঠন পরিকল্পনার শর্ত মোতাবেক দেনাদার দায়মুক্তি পাইতে পারেন, যদি আদালত সেইমর্মে আদেশ প্রদান করে;
(ঙ) ধারা ৪৭ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দেনাদার কোন সম্পত্তির দখলে থাকিলে এবং পুনর্গঠনের স্বার্থে উক্ত সম্পত্তি তত্কর্তৃক ব্যবহার করা প্রয়োজনীয় হইলে, তিনি উক্ত সম্পত্তির দখল অব্যাহত রাখিতে পারিবেন, যদিও উক্ত সম্পত্তি কোন পূর্বস্বত্ব (lien) বা বন্ধক সাপেক্ষ হয় বা অন্য কোনভাবে জামানতসহ দায়বদ্ধ থাকে:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ সম্পত্তির দখল গ্রহণের জন্য আদালত কোন জামানতকারী পাওনাদারকে অনুমতি দিতে পারিবে, যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, পুনর্গঠনের বিষয়টি নিষ্পন্নাধীন থাকাকালে উক্ত সম্পত্তিতে তাহার স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষিত হয় নাই অথবা উক্ত সম্পত্তিতে দেনাদারের আর কোন ন্যায়ানুগ স্বার্থ (equity) নাই;
(চ) ধারা ৬৬-তে বিধৃত হারে রিসিভার ফিস গ্রহণের অধিকারী হইবেন;
(ছ) রিসিভার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অথবা এইরূপ বিধি না থাকিলে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অনধিক সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি পাওনাদার কমিটি গঠন করিবেন; তবে সদস্যগণকে এমন পাওনাদার হওয়া প্রয়োজন যে, তাহাদের পাওনা জামানতবিহীন ও পরিমাণের দিক হইতে সর্বোচ্চ এবং তাহারা কমিটিতে সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইতে ইচ্ছুক৷
(ক) বণ্টনযোগ্য সম্পদ ও তদ্সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে দেনাদারের ক্ষমতা ও কর্তব্য এবং তাহার উপর আরোপিত বাধা নিষেধ;
(খ) উক্তরূপ ব্যবস্থাপনা রিসিভার কর্তৃক পরিবীক্ষণের (monitor) পদ্ধতি;
(গ) পাওনাদার কমিটি কর্তৃক রিসিভারকে পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রসমূহ;
(ঘ) উক্তরূপ ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শের ব্যাপারে রিসিভারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;
(ঙ) পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রযোজ্য সময়সীমা এবং দিক নির্দেশনা৷
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সংশোধন বা রদকরণের ফলে, উহার পূর্বে অনুমোদিত পুনর্গঠন পরিকল্পনার অধীনে যথাযথভাবে সম্পাদিত কোন হস্তান্তর বা অর্থ পরিশোধ বা অন্য কোন কিছুর বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না৷
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ২৭(৩) মোতাবেক দেউলিয়ার জিজ্ঞাসাবাদ সমাপ্ত না হইয়া থাকিলে উক্তরূপ শুনানী মুলতবী করিতে হইবে৷
(ক) দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন থাকাকালে দেনাদারের আচরণসহ তাহার সাধারণ আচরণ এবং কার্যকলাপ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত ও দাখিল করিবার জন্য রিসিভারকে নির্দেশ প্রদান করিবে;
(খ) উক্ত প্রতিবেদন বিবেচনাক্রমে, নিঃশর্ত দায়মুক্তির আদেশ প্রদান করিতে বা উহা প্রত্যাখ্যান করিতে পারিবে অথবা দায়মুক্তির আদেশ প্রদানের পরবর্তীকালে দেনাদারের প্রাপ্ত বা তত্কর্তৃক অর্জিতব্য কোন আয় বা অর্জন সম্পর্কে কোন শর্ত আরোপ করিয়া দায়মুক্তির আদেশ দিতে পারিবে৷
(ক) দেনাদার এই আইনের অধীন, অথবা দণ্ডবিধির ৪২১, ৪২২, ৪২৩ বা ৪২৪ ধারার অধীন কোন অপরাধ করিয়াছেন; অথবা
(খ) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত কোন ঘটনা প্রমাণিত হইয়াছে:
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত উহার নথিতে লিপিবদ্ধ মোট দেনার অন্ততঃ ৫০% এর সমপরিমাণ অর্থ দেনাদার কর্তৃক আদালতে জমাকরণের শর্ত সাপেক্ষে উক্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে৷
(ক) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের অব্যবহিত পূর্বের তিন বত্সরের মধ্যে বা বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত কর্তৃক নির্ধারিত স্বল্পতর সময়, এর মধ্যে, দেনাদার তাহার ব্যবসায়িক লেন-দেন এবং আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য প্রদানকারী হিসাব-বহি রক্ষণাবেক্ষণ করেন নাই;
(খ) দেনাদার নিজেকে দেউলিয়ারূপে জানার পরও বা তাহা বিশ্বাস করার সংগত কারণ থাকা সত্বেও, তিনি তাহার কারবার চালু রাখিয়াছিলেন;
(গ) দেনাদার এইরূপ কোন দেনার চুক্তি করিয়াছেন যাহা তিনি পরিশোধ করিতে পারিবেন বলিয়া উক্ত চুক্তির সময় আশা করার যুক্তিসংগত কারণ ছিল না; এইরূপ পরিশোধের আশা করার যৌক্তিকতা প্রমাণের দায়িত্ব দেনাদারের উপর বর্তাইবে;
(ঘ) দেনাদারের বেপরোয়া ফটকামূলক কাজকর্ম (rash speculation), বা অসংযমী জীবন-যাপন, বা হটকারিতা, বা ব্যবসা-বাণিজ্যে ও বিষয়াদিতে যুক্তিসংগত সতর্কতা ও মনোযোগের অভাব, তাহাকে দেউলিয়া করিয়াছে, অথবা দেউলিয়া হইতে অবদান রাখিয়াছে;
(ঙ) দেউলিয়ার বিরুদ্ধে যথাযথভাবে আনীত কোন মামলা বা অন্য কোন কার্যধারায় তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক (frivolous or vexatious) আপত্তিকর অবতারণা করিয়া দেনাদার উক্ত মামলা বা কার্যধারার নিষ্পত্তি বিলম্ব করিয়াছেন বা তাহার সংশ্লিষ্ট পাওনাদারকে অপ্রয়োজনীয় খরচ করিতে বাধ্য করিয়াছেন;
(চ) আর্জি দাখিলকৃত হওয়ার তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী তিন মাসের মধ্যে দেনাদার তাহার কোন পাওনাদারকে অবৈধ অগ্রাধিকার প্রদান করিয়াছেন;
(ছ) দেনাদার ইতিপূর্বে বাংলাদেশে বা অন্যত্র দেউলিয়া ঘোষিত হইয়াছেন, অথবা তাহার দেনা পরিশোধের ব্যাপারে কোন আপোষ-মিমাংসা বা পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা বা পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনুমোদিত হইয়াছে;
(জ) দেনাদার কোন প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন;
(ঝ) আর্জি দাখিল হওয়ার তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী তিন মাসের মধ্যে দেনাদার এইরূপ পরিস্থিততে বাংলাদেশের বাহিরে কোন সামগ্রী প্রেরণ করিয়াছেন যাহা হইতে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে যে, উক্ত সামগ্রী প্রেরণ সদুদ্দেশ্যমূলক বাণিজ্যিক লেন-দেন ছিল না;
(ঞ) দেনাদারের বণ্টনযোগ্য সম্পদের মূল্য তাহার জামানতবিহীন দায় (unsecured liabilities) এর ৫০% এর সম-পরিমাণ নহে, যদি না তিনি আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারেন যে, এই পরিস্থিতি উদ্ভূত হওয়ার জন্য তাহাকে ন্যায়সংগতভাবে দায়ী করা যায় না৷
(ক) যদি দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারার যেকোন পর্যায়ে দেনাদার আদালতে উপস্থিত হন এবং এইরূপ উপস্থিত হওয়ার আগে বা পরে যখন হউক, উক্ত কার্যধারায় তাহাকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়, তাহা হইলে ধরিয়া লওয়া হইবে (Presumed) যে, তিনি নিজেকে দেউলিয়ারূপে জানিতেন অথবা তাহার উক্তরূপ বিশ্বাস করার কারণ ছিল;
(খ) যদি রিসিভার আদালতকে এই মর্মে অবহিত (report) করেন যে, দেনাদারের বণ্টনযোগ্য সম্পদের মধ্যে উদ্ধারকৃত এবং উদ্ধারযোগ্য সম্পত্তিগুলির (assets) আনুমানিক মূল্য প্রমাণিত দেনাসমূহের ৫০% পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নহে, তাহা হইলে আদালত, বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, ধরিয়া লইবে (shall presume) যে, দেনাদার নিজেকে দেউলিয়ারূপে জানিবার পরও অথবা তাহার উক্তরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকা সত্ত্বেও, তিনি তাহার কারবার চালু রাখিয়াছেন :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন নির্দিষ্ট তারিখে দেনাদার নিজেকে দেউলিয়ারূপে জানিতেন কিনা, অথবা তাহার উক্তরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ ছিল কিনা তাহা নিরূপণের ক্ষেত্রে, উক্ত তারিখে তাহার যে সকল দেনা বার মাসের অধিককালব্যাপী অপরিশোধিত ছিল সেই সকল দেনা পূর্বোক্ত সম্পত্তিগুলির (assets) মূল্যমান হইতে বাদ দিতে হইবে;
(গ) একজন দেনাদার নিজেকে দেউলিয়ারূপে জানিবার পরও, বা তাহার উক্তরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকা সত্ত্বেও, তিনি তাহার কারবার চালু রাখিয়াছেন বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবে, যদি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর তিনি বাস্তবে তাহার কারবার চালু রাখিয়া থাকেন, এবং তিনি-
(অ) আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে না পারেন যে, নিজেকে স্বচ্ছল বলিয়া বিশ্বাস করিবার মত যুক্তিসংগত কারণ ছিল, অথবা
(আ) যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত আর্জি দাখিলকৃত হওয়ার তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী তিন বত্সরের প্রতি বত্সরের জন্য তাহার কারবারের ব্যালেন্সশীট দাখিল করিতে ব্যর্থ হন; এইরূপ যুক্তিসংগত কারণ প্রমাণের দায়িত্ব বর্তাইবে তাহার উপর;
(ঘ) আর্জি দাখিলকৃত হওয়ার তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী তিন মাসের মধ্যে দেনাদার কর্তৃক তাহার কোন পাওনাদারকে প্রদত্ত যেকোন অগ্রাধিকার, বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, অযৌক্তিকভাবে প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া ধরিয়া লইতে হইবে৷
(ক) দেনাদার তাহার দায়মুক্তির বিষয়ে শুনানীর জন্য ধারা ৩০(১) (খ) (অ) এর অধীনে নির্ধারিত তারিখে বা, ধারা ৫০(১) এর বিধান সাপেক্ষে, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত পরবর্তী কোন তারিখে উপস্থিত হইতে ব্যর্থ হন, অথবা
(খ) ধারা ৫০(১) এর অধীনে নির্ধারিত তারিখের পূর্বে দেনাদার তাহার দায়মুক্তির আবেদন পেশ না করেন, অথবা
(গ) দেনাদারের উক্তরূপ আবেদন শুনানীর পর আদালত যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, দায়মুক্তির আদেশ প্রদান করা যথাযথ হইবে না,
তাহা হইলে আদালত উক্ত দেনাদারকে দায়গ্রস্ত দেউলিয়া বলিয়া ঘোষণা করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিবে৷
(ক) দেউলিয়া, উক্ত আদেশের তারিখের পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে, আদালতে, তাহার দায়মুক্তির আবেদন করিবেন;
(খ) উক্ত মেয়াদের মধ্যে আবেদন করা হইলে আবেদনটি শুনানীর উদ্দেশ্যে আদালত, উক্ত মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, একটি তারিখ নির্ধারণ করিবে এবং তত্সম্পর্কে রিসিভার ও আদালতের নথিতে লিপিবদ্ধ পাওনাদারগণকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অথবা এইরূপ বিধি না থাকিলে আদালতের বিবেচনা অনুসারে যথাযথ পদ্ধতিতে, নোটিশ প্রদান করিবে;
(গ) আদালত, উপস্থিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদানের পর, দেউলিয়ার দায়মুক্তির আদেশ প্রদান করিতে পারিবে;
(ঘ) দায়মুক্তির আদেশ প্রদত্ত না হইলে, দেনাদার একজন দায়গ্রস্ত দেউলিয়া থাকিয়া যাইবে৷
(ক) প্রতি ৬ (ছয়) মাস অন্তর একবার রিসিভারের নিকট এইরূপ একটি বিবরণী দাখিল করিবেন যাহাতে উক্ত ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে দেনাদার কর্তৃক প্রাপ্ত বা অর্জিত সকল অর্থ ও সম্পত্তির হিসাব লিপিবদ্ধ থাকিবে, এবং দেনাদার তাহার নিজের ও পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বাবদ ব্যয়িত অর্থ বাদে অবশিষ্ট অর্থ ও সম্পত্তি রিসিভারের নিকট অর্পণ করিবেন;
(খ) আদালতের পূর্বানুমতি ব্যতীত বাংলাদেশ ত্যাগ করিবেন না৷
(ক) উপ-ধারা (২)(ক) এর বিধান পালনে ব্যর্থ হইলে, তিনি এক বত্সর কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) উপ-ধারা (২)(খ) এর বিধান ভংগ করিলে, দুই বত্সর কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷