অংশীদারি আইন, ১৯৩২ বাংলাদেশে অংশীদারি আইন সংজ্ঞায়িত ও নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বাংলাদেশের মধ্যে গঠিত সকল অংশীদারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার অর্থ সেই ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পর্ক যারা সকলের বা তাদের যেকোনোর দ্বারা সবার পক্ষে কাজ করে পরিচালিত ব্যবসার মুনাফা ভাগ করতে সম্মত হয়েছে। আইনটি কোম্পানি আইনের অধীনে একটি কোম্পানি থেকে পৃথক একটি সম্পর্ক হিসাবে অংশীদারি সংজ্ঞায়িত করে এবং একটি পৃথক আইনি সত্তা নয়। মূল প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে অংশীদারি গঠনের বিধান (মৌখিক বা লিখিত হতে পারে, তবে লিখিত অংশীদারি দলিল সুপারিশ করা হয়), অংশীদারদের একে অপরের সাথে সম্পর্ক (ধারা ৯-১৭), অংশীদারদের তৃতীয় পক্ষের সাথে সম্পর্ক (ধারা ১৮-৩০), ফার্ম ভাঙনের নিয়ম (ধারা ৩৯-৫৫) এবং ফার্ম নিবন্ধন (ধারা ৫৬-৭১)। উল্লেখযোগ্য বিধানগুলির মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক প্রতিনিধিত্বের নীতি — প্রতিটি অংশীদার ফার্মের ব্যবসার উদ্দেশ্যে ফার্ম ও অন্যান্য অংশীদারদের এজেন্ট (ধারা ১৮); ফার্মের ঋণের জন্য অংশীদারদের ব্যক্তিগত দায় (ধারা ২৫) যা অসীম; ব্যবসার স্বাভাবিক পথে ব্যয়িত খরচের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অংশীদারদের অধিকার (ধারা ৩২); চুক্তি দ্বারা, নোটিশ দ্বারা (ইচ্ছাধীন অংশীদারির ক্ষেত্রে), আদালত দ্বারা (উন্মাদনা, স্থায়ী অক্ষমতা, অসদাচরণ বা চুক্তির স্থায়ী লঙ্ঘনের মতো ভিত্তিতে) এবং অংশীদারের মৃত্যু বা দেউলিয়ার মতো নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলে ভাঙনের বিধান (ধারা ৩৯-৪৪); এবং অনিবন্ধনের প্রভাব যার মধ্যে অনিবন্ধিত ফার্মের তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে অক্ষমতা কিন্তু মামলার মুখোমুখি হতে অক্ষমতা নয়। আইনটি বর্তমানে বলবৎ।
পূর্ণ পাঠ · প্রধান ধারাসমূহ
§ 1সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, বিস্তার ও কার্যকাল
এই আইন অংশীদারি আইন, ১৯৩২ নামে অভিহিত হইবে এবং সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।
§ 2সংজ্ঞা
এই আইনে প্রসঙ্গভেদে ভিন্নতর অর্থ না থাকিলে নিম্নলিখিত সংজ্ঞাগুলি প্রযোজ্য হইবে।
§ 3চুক্তি আইনের প্রয়োগ
অংশীদারি সম্পর্কে চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে, যতক্ষণ না এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান করা হয়।
§ 4অংশীদারি, অংশীদার ফার্ম ও ফার্মের নামের সংজ্ঞা
(1)অংশীদারি বলিতে ব্যক্তিগণের মধ্যে এমন সম্পর্ক বুঝায় যাহা সকলের বা তাহাদের মধ্যে যেকোনো একজনের পক্ষে ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে সকলের দ্বারা বা সকলের মধ্যে যে কোনো একজনের দ্বারা গৃহীত কার্যকলাপের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সম্পর্ক।
§ 5অংশীদারি পদমর্যাদা দ্বারা সৃষ্টি হয় না
কোনো অংশীদারি কেবল পদমর্যাদার ভিত্তিতে সৃষ্ট হয় না।
§ 6অংশীদারিত্বের অস্তিত্ব নির্ণয়ের পদ্ধতি
অংশীদারিত্বের অস্তিত্ব নির্ণয়ের জন্য পারস্পরিক এজেন্সির নীতি প্রযোজ্য হইবে।
§ 7অংশীদারি ভাগ করে প্রাপ্ত
কোনো ব্যবসার লাভ ভাগ করে নেওয়া মাত্রই অংশীদারিত্বের অস্তিত্ব প্রমাণ করে না।
§ 8অংশীদারি সম্পত্তি
অংশীদারি কারবারের জন্য অংশীদারগণের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তি অংশীদারি সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে।
§ 9অংশীদারদের সাধারণ কর্তব্য
অংশীদারগণ একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ততার সহিত কার্য করিবেন।
§ 10ক্ষতিপূরণের কর্তব্য
প্রত্যেক অংশীদার ফার্মের কারবারে আনা ক্ষতির জন্য ফার্মকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকিবেন।
§ 11অংশীদারি সিদ্ধান্ত
ফার্মের কারবার সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত অংশীদারগণের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হইবে।
§ 12aব্যবসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চুক্তি
অংশীদারগণ ব্যবসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার চুক্তি করিতে পারেন।
কোনো অংশীদার যদি ফার্মের বিষয়ে অসদাচরণ করেন, তবে তিনি উহার জন্য ফার্মকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকিবেন।
§ 14ফার্মের দেনা
ফার্মের সকল দেনার জন্য প্রত্যেক অংশীদার যৌথ ও পৃথকভাবে দায়ী থাকিবেন।
§ 15নতুন অংশীদারের যোগদান
ফার্মে কোনো নতুন অংশীদার কেবল সকল বিদ্যমান অংশীদারের সম্মতিক্রমে যোগদান করিতে পারিবেন।
§ 16অংশীদারের অবসর গ্রহণ
কোনো অংশীদার ফার্মের সকল অংশীদারের লিখিত সম্মতিক্রমে বা অংশীদারি চুক্তি অনুযায়ী অবসর গ্রহণ করিতে পারিবেন।
§ 17অংশীদারের বরখাস্ত
কোনো অংশীদারকে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারের ভোটে বরখাস্ত করা যাইতে পারে।
§ 18aফার্মের মেয়াদ শেষের পর
ফার্মের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কারবার অব্যাহত থাকিলে অংশীদারি অব্যাহত থাকে।
§ 20aঅতিরিক্ত কার্য সম্পাদন
অংশীদারগণ অতিরিক্ত কার্য সম্পাদনের জন্য সম্মত হইতে পারেন।
§ 18ফার্মের দ্রবীভবন
ফার্ম দ্রবীভূত হইলে অংশীদারগণের মধ্যে সম্পর্ক সমাপ্ত হয়।
§ 19দ্রবীভবনের পর অংশীদারদের অধিকার
ফার্ম দ্রবীভূত হওয়ার পর প্রত্যেক অংশীদারের দ্রবীভবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজে সহযোগিতার অধিকার থাকিবে।
§ 20ফার্মের নামে মামলা
ফার্ম তাহার নামে মামলা দায়ের করিতে বা মামলার উত্তর দিতে পারে।
§ 21অংশীদারি সম্পত্তির ব্যবহার
অংশীদারি সম্পত্তি কেবল ফার্মের কারবারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাইবে।
§ 22অংশীদার কর্তৃক ব্যক্তিগত লাভ
কোনো অংশীদার ফার্মের কারবারের সিলসিলায় কোনো ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করিলে, তাহা ফার্মের হিসাবে জমা দিতে বাধ্য থাকিবেন।
§ 23অংশীদারদিগকে তথ্য প্রদান
প্রত্যেক অংশীদার অন্য সকল অংশীদারকে ফার্মের বিষয়ে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন।
§ 24অংশীদারদিগের প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসা
কোনো অংশীদার ফার্মের অনুমতি ব্যতিরেকে ফার্মের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো ব্যবসা করিতে পারিবেন না।
§ 25অংশীদারদিগের সমান অধিকার
অংশীদারি চুক্তিতে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা না থাকিলে সকল অংশীদারের সমান অধিকার থাকিবে।
§ 26অংশীদারের এজেন্সি
ফার্মের কারবারের জন্য কোনো অংশীদার কর্তৃক গৃহীত কার্য অন্য সকল অংশীদারকে বাধ্য করে।
§ 27অংশীদারের দায়
ফার্মের কোনো কার্যের জন্য প্রত্যেক অংশীদার ফার্ম ও অন্যান্য অংশীদারের নিকট দায়ী থাকিবেন।
§ 28ফার্মের সম্পত্তি
অংশীদারি চুক্তিতে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা না থাকিলে, ফার্মের নামে অর্জিত সকল সম্পত্তি অংশীদারি সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে।
§ 29অংশীদারের অবসর গ্রহণের অধিকার
অংশীদারি চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তানুযায়ী কোনো অংশীদার ফার্ম হইতে অবসর গ্রহণ করিতে পারিবেন।
§ 30অবসর গ্রহণের নোটিশ
নির্দিষ্ট মেয়াদের অংশীদারি না থাকিলে, কোনো অংশীদার ফার্ম হইতে অবসর গ্রহণের ইচ্ছা জানাইয়া অন্যান্য অংশীদারদিগকে নোটিশ প্রদান করিতে পারিবেন।
§ 31অবসর গ্রহণের প্রভাব
কোনো অংশীদারের অবসর গ্রহণে ফার্মের কারবার শেষ না হইতে পারে।
§ 32অংশীদারের অবসর গ্রহণ
(1)কোনো অংশীদার অন্যান্য অংশীদারদিগের সম্মতিক্রমে বা অংশীদারি চুক্তি অনুযায়ী ফার্ম হইতে অবসর গ্রহণ করিতে পারিবেন।
§ 33অবসরপ্রাপ্ত অংশীদারের দায়
অবসরপ্রাপ্ত অংশীদার অবসর গ্রহণের পূর্বে সংঘটিত ফার্মের দেনার জন্য দায়ী থাকিবেন।
§ 34অবসরপ্রাপ্ত অংশীদারের অধিকার
অবসরপ্রাপ্ত অংশীদার ফার্মে তাহার প্রাপ্য অংশ ও সুদ পাইবার অধিকারী।
§ 35অংশীদারের মৃত্যু
কোনো অংশীদারের মৃত্যুতে অংশীদারি ভঙ্গ হয়, তবে অংশীদারি চুক্তিতে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা থাকিলে তাহা প্রযোজ্য হইবে।
§ 36অংশীদারের অক্ষমতা
কোনো অংশীদার স্থায়ীভাবে অক্ষম হইলে তিনি ফার্ম হইতে অবসর গ্রহণ করিতে বাধ্য হন।
§ 37aপ্রতিদ্বন্দ্বিতার চুক্তি
অংশীদারি চুক্তিতে ব্যবসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার শর্ত সংযোজন করা যাইতে পারে।
§ 37অংশীদারি চুক্তির মেয়াদ
নির্দিষ্ট মেয়াদের অংশীদারি চুক্তির মেয়াদ শেষে অংশীদারি ভঙ্গ হয়।
§ 38ইচ্ছায় অংশীদারি ভঙ্গ
কোনো অংশীদার অন্য সকল অংশীদারকে অবগত করিয়া যে কোনো সময় অংশীদারি ভঙ্গ করিতে পারিবেন।
§ 39ফার্মের দ্রবীভবনের অর্থ
ফার্মের দ্রবীভবন বলিতে অংশীদারিগণের মধ্যে ফার্মের বিষয়ে সম্পর্কের সমাপ্তি বুঝায়।
§ 40পরস্পর চুক্তিতে দ্রবীভবন
সকল অংশীদারের সম্মতিক্রমে ফার্ম দ্রবীভূত করা যাইবে।
§ 41অবশ্যম্ভাবী ঘটনায় দ্রবীভবন
কোনো অংশীদারের মৃত্যু বা দেউলিয়া হওয়ায় ফার্ম দ্রবীভূত হয়, যদি না অংশীদারি চুক্তিতে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা থাকে।
§ 42অবৈধ কারবারে দ্রবীভবন
ফার্মের কারবার অবৈধ হইয়া পড়িলে ফার্ম দ্রবীভূত হয়।
§ 43আদালতের আদেশে দ্রবীভবন
কোনো অংশীদারের পিটিশনে আদালত নিম্নলিখিত কারণে ফার্ম দ্রবীভূত করিতে পারে।
§ 44দ্রবীভবনের পর অংশীদারদিগের অধিকার
ফার্ম দ্রবীভূত হওয়ার পর সকল অংশীদারের ফার্মের সম্পত্তি বিক্রয় ও দেনা পরিশোধের ক্ষমতা থাকিবে।
§ 45দ্রবীভবনের পর অংশীদারদিগের পারস্পরিক অধিকার
ফার্ম দ্রবীভূত হওয়ার পর প্রত্যেক অংশীদার অন্যান্য অংশীদারদিগকে ফার্ম ত্যাগ করিতে ও ফার্মের উদ্বৃত্ত তহবিল বিতরণের অনুরোধ জানাইতে পারেন।
§ 46দ্রবীভবনের পর অংশীদারি সম্পত্তির ব্যবহার
ফার্ম দ্রবীভূত হওয়ার পরও ফার্মের সম্পত্তি কেবল ফার্মের দেনা পরিশোধ ও উদ্বৃত্ত বিতরণের জন্য ব্যবহার করা যাইবে।
অংশীদারি আইন, ১৯৩২ বাংলাদেশে অংশীদারি আইন সংজ্ঞায়িত ও নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বাংলাদেশের মধ্যে গঠিত সকল অংশীদারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার অর্থ সেই ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পর্ক যারা সকলের বা তাদের যেকোনোর দ্বারা সবার পক্ষে কাজ করে পরিচালিত ব্যবসার মুনাফা ভাগ করতে সম্মত হয়েছে। আইনটি কোম্পানি আইনের অধীনে একটি কোম্পানি থেকে পৃথক একটি সম্পর্ক হিসাবে অংশীদারি সংজ্ঞায়িত করে এবং একটি পৃথক আইনি সত্তা নয়। মূল প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে অংশীদারি গঠনের বিধান (মৌখিক বা লিখিত হতে পারে, তবে লিখিত অংশীদারি দলিল সুপারিশ করা হয়), অংশীদারদের একে অপরের সাথে সম্পর্ক (ধারা ৯-১৭), অংশীদারদের তৃতীয় পক্ষের সাথে সম্পর্ক (ধারা ১৮-৩০), ফার্ম ভাঙনের নিয়ম (ধারা ৩৯-৫৫) এবং ফার্ম নিবন্ধন (ধারা ৫৬-৭১)। উল্লেখযোগ্য বিধানগুলির মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক প্রতিনিধিত্বের নীতি — প্রতিটি অংশীদার ফার্মের ব্যবসার উদ্দেশ্যে ফার্ম ও অন্যান্য অংশীদারদের এজেন্ট (ধারা ১৮); ফার্মের ঋণের জন্য অংশীদারদের ব্যক্তিগত দায় (ধারা ২৫) যা অসীম; ব্যবসার স্বাভাবিক পথে ব্যয়িত খরচের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অংশীদারদের অধিকার (ধারা ৩২); চুক্তি দ্বারা, নোটিশ দ্বারা (ইচ্ছাধীন অংশীদারির ক্ষেত্রে), আদালত দ্বারা (উন্মাদনা, স্থায়ী অক্ষমতা, অসদাচরণ বা চুক্তির স্থায়ী লঙ্ঘনের মতো ভিত্তিতে) এবং অংশীদারের মৃত্যু বা দেউলিয়ার মতো নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলে ভাঙনের বিধান (ধারা ৩৯-৪৪); এবং অনিবন্ধনের প্রভাব যার মধ্যে অনিবন্ধিত ফার্মের তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে অক্ষমতা কিন্তু মামলার মুখোমুখি হতে অক্ষমতা নয়। আইনটি বর্তমানে বলবৎ।