রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ একটি যুগান্তকারী আইন যা জমিদারি ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বাতিল করে এবং বাংলাদেশে কৃষি জমিতে প্রজা (রায়ত) অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এটি বাংলাদেশের সকল কৃষি জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (চা বাগান ও নির্দিষ্ট অন্যান্য বিভাগ ব্যতীত) এবং এই ধরনের জমিতে জমির মালিক, স্বত্বাধিকারী ও রায়তের অধিকার। আইনটি মধ্যস্বত্বভোগীদের (জমিদার) সকল এস্টেট ও অধিকার সরকারের কাছে ন্যস্ত করে, তাদের বন্ড দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেয় এবং রাষ্ট্র ও রায়তের (কৃষক প্রজা) মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে (ধারা ৩-৬)। মূল প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে প্রজাদের বিভিন্ন শ্রেণিতে শ্রেণিবিভাগ — রায়ত (কৃষক প্রজা), আন্ডার-রায়ত (উপ-প্রজা) ও খাস দখল; রায়তদের প্রদেয় খাজনা নিয়ন্ত্রণ (ধারা ৭-২৮); রায়তি হোল্ডিংয়ের মেয়াদ নির্ধারণ (যা নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ সাপেক্ষে উত্তরাধিকারযোগ্য ও হস্তান্তরযোগ্য); নির্দিষ্ট ভিত্তি ব্যতীত উচ্ছেদ থেকে রায়তদের সুরক্ষা (ধারা ৯৬); এবং আইন প্রশাসনের জন্য রাজস্ব আদালত ও রাজস্ব কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠা। উল্লেখযোগ্য বিধানগুলির মধ্যে রয়েছে অনুমতি ছাড়া রায়তদের উপ-ইজারা নিষেধাজ্ঞা (ধারা ১৫); নির্দিষ্ট এলাকায় রায়তি হোল্ডিংয়ের হস্তান্তরযোগ্য প্রকৃতির সীমাবদ্ধতা; সহ-স্বত্বাধিকারী প্রজাদের দ্বারা হস্তান্তরিত জমির অগ্রক্রয়ের বিধান; খাজনা বকেয়ার সুদের হার নিয়ন্ত্রণ; প্রতিটি গ্রামের জন্য অধিকার রেকর্ড (খতিয়ান) প্রস্তুতের বিধান (ধারা ১০২); এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের দ্বারা খাজনা, দখল ও প্রজাস্বত্ব অধিকার সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তি। আইনটি সময়ের সাথে ব্যাপকভাবে সংশোধিত হয়েছে। আইনটি বাংলাদেশে কৃষি জমির স্বত্ব ব্যবস্থার ভিত্তি হিসাবে মৌলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রয়ে গেছে।
পূর্ণ পাঠ · প্রধান ধারাসমূহ
§ 1সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, বিস্তার ও কার্যকাল
§ 2সংজ্ঞা
§ 2Aছাড়
§ 3স্বত্ব গ্রহীতার স্বার্থ অধিগ্রহণ
§ 3Aনোটিশ সেবা
§ 4অধিগ্রহণের প্রভাব
§ 5ক্ষতিপূরণ
§ 6ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ
§ 6Aট্রাস্ট সম্পত্তির অগ্রিম প্রদান
§ 7ক্ষতিপূরণ প্রদানের পদ্ধতি
§ 8ক্ষতিপূরণ কমিশন
§ 9কমিশনের ক্ষমতা
§ 10কমিশনের সিদ্ধান্ত
§ 10Aবিশেষ বিধান
§ 11জমির মালিকানা
§ 12প্রজার অধিকার
§ 13ইজারা প্রদান
§ 14ইজারা শর্ত
§ 15ইজারা ফি
§ 16ইজারা নবায়ন
§ 17ইজারা বাতিল
§ 18ইজারা বাতিলের পদ্ধতি
§ 19ইজারা হস্তান্তর
§ 20ইজারা হস্তান্তরের ফি
§ 21ভূমি রাজস্ব
§ 22রাজস্ব নির্ধারণ
§ 23রাজস্ব পরিশোধ
§ 24রাজস্ব বকেয়া
§ 25রাজস্ব বকেয়া আদায়
§ 25Aভাড়া বৃদ্ধি
§ 26রাজস্ব মওকুফ
§ 27জরিমানা
§ 28প্রজার সুরক্ষা
§ 29প্রজার দখল পুনরুদ্ধার
§ 30প্রজার উন্নয়ন
§ 31প্রজার ফসল
§ 32প্রজার আবাদ
§ 33প্রজার আবাদ না করিলে
§ 34প্রজার দখলে জমি
§ 35প্রজার উত্তরাধিকার
§ 36উত্তরাধিকার নির্ধারণ
§ 36Aপ্রজার অধিকার সংরক্ষণ
§ 37প্রজার দেনা
§ 38দেনা আদায়ের পদ্ধতি
§ 39ভূমি জরিপ
§ 40জরিপের পদ্ধতি
§ 41জরিপ রেকর্ড
§ 42রেকর্ড হালনাগাদ
§ 43রেকর্ড সংশোধন
§ 44রেকর্ডের চূড়ান্তকরণ
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ একটি যুগান্তকারী আইন যা জমিদারি ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বাতিল করে এবং বাংলাদেশে কৃষি জমিতে প্রজা (রায়ত) অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এটি বাংলাদেশের সকল কৃষি জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (চা বাগান ও নির্দিষ্ট অন্যান্য বিভাগ ব্যতীত) এবং এই ধরনের জমিতে জমির মালিক, স্বত্বাধিকারী ও রায়তের অধিকার। আইনটি মধ্যস্বত্বভোগীদের (জমিদার) সকল এস্টেট ও অধিকার সরকারের কাছে ন্যস্ত করে, তাদের বন্ড দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেয় এবং রাষ্ট্র ও রায়তের (কৃষক প্রজা) মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে (ধারা ৩-৬)। মূল প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে প্রজাদের বিভিন্ন শ্রেণিতে শ্রেণিবিভাগ — রায়ত (কৃষক প্রজা), আন্ডার-রায়ত (উপ-প্রজা) ও খাস দখল; রায়তদের প্রদেয় খাজনা নিয়ন্ত্রণ (ধারা ৭-২৮); রায়তি হোল্ডিংয়ের মেয়াদ নির্ধারণ (যা নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ সাপেক্ষে উত্তরাধিকারযোগ্য ও হস্তান্তরযোগ্য); নির্দিষ্ট ভিত্তি ব্যতীত উচ্ছেদ থেকে রায়তদের সুরক্ষা (ধারা ৯৬); এবং আইন প্রশাসনের জন্য রাজস্ব আদালত ও রাজস্ব কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠা। উল্লেখযোগ্য বিধানগুলির মধ্যে রয়েছে অনুমতি ছাড়া রায়তদের উপ-ইজারা নিষেধাজ্ঞা (ধারা ১৫); নির্দিষ্ট এলাকায় রায়তি হোল্ডিংয়ের হস্তান্তরযোগ্য প্রকৃতির সীমাবদ্ধতা; সহ-স্বত্বাধিকারী প্রজাদের দ্বারা হস্তান্তরিত জমির অগ্রক্রয়ের বিধান; খাজনা বকেয়ার সুদের হার নিয়ন্ত্রণ; প্রতিটি গ্রামের জন্য অধিকার রেকর্ড (খতিয়ান) প্রস্তুতের বিধান (ধারা ১০২); এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের দ্বারা খাজনা, দখল ও প্রজাস্বত্ব অধিকার সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তি। আইনটি সময়ের সাথে ব্যাপকভাবে সংশোধিত হয়েছে। আইনটি বাংলাদেশে কৃষি জমির স্বত্ব ব্যবস্থার ভিত্তি হিসাবে মৌলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রয়ে গেছে।